বান্ধবী




সকাল থেকে হাতের কাজ গুলো তড়িঘড়ি করে সারছে তনিমা। তনিমাকে এভাবে জলদি কাজ করতে দেখে একটু অবাক হয় মোহন। সে তনিমাকে জিজ্ঞেস করে, 

– কি ব্যাপার তনু আজ এতো তড়িঘড়ি করে কাজ করছ যে, কোথাও বেড়বে নাকি?

– কেন ভুলে গেছো বুঝি?
  গতকাল যে বললাম আজ আমার কলেজের রিইউনিয়ন। 

– ওহ তাই তো! দেখেছ একদম ভুলে গেছিলাম। আজ তো তিন-'ত' এর মিলন তিথি। তিন 'ত' তা তা তা! হা হা হা।

মোহনের কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে একবার অগ্নি বর্ষণ করে তনিমা। সেদিকে তাকিয়ে আর কিছু বলার সাহস পায় না মোহন। তবে সে মনে মনে একটু খুশীই হয় এই ভেবে যে, আজ অনেক দিন পর তনিমার মধ্যে একটা খুশীর আমেজ দেখা দিয়েছে। 
মোহনের কথায় একটু রাগ দেখালেও মনে মনে বেশ হাসি পায় তনিমার। 

তনিমা, তনুজা ও তনুশ্রী তারা তিনজন ছিল এক আত্মা এক প্রাণ। কলেজের সবাই তাদের ডাকতো তিন 'ত' বলে। গার্লস কলেজে পড়ার দরুন তারা তিনজন বলতে গেলে বেশ ডানপিটে ছিল। কলেজের সবাই বলতে গেলে তাদের এক নামে চিনতো তিন 'ত' তা তা তা!

সকাল ১১টা বেজে ২৫ মিনিট, তনিমা দাঁড়িয়ে আছে তাদের  কলেজ গেটের সামনে। আজ দশ বছর হলো কলেজের পাট চুকিয়েছে। কলেজ পাশের পরপরই বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারনে কলেজে আার কখনো আসা হয়ে ওঠে নি তার। এই দশ বছরে কলেজটা কত বদলে গেছে। এসব ভাবতে ভাবতে কেউ একজন পেছন থেকে জাপ্টে ধরে তনিমাকে। আকস্মিক এমন আক্রমণে একটু ভরকে যায় তনিমা। কিন্তু এই ভরকে যাওয়া ব্যপারটা বেশিক্ষণ টিকতে পারে না। কারন এভাবে জাপ্টে ধরে তাকে ভালোবাসার জানান দিত একজনই, আর সেই মানুষটার গায়ের মিষ্টি গন্ধ তো কখনোই ভোলার  নয়। সেই মানুষ আর কেউ নয় তার প্রাণের বান্ধবী তনুজা! এতগুলো বছর পর তনুজাকে দেখে তনিমার চোখের জল যেন আর বাঁধ মানে না। তনুজাকে জড়িয়ে ধরে সে বলে ওঠে, 

– বান্ধবী আমার আজ কতদিন পরে দেখা হলো। কতটা বদলে গেছিস তুই। 

– অনেক হয়েছে ভালোবাসা দেখানো। এবার ছাড় আমাকে, আমিও একটু তোকে দেখি।

– আমাকে আর কি দেখবি সংসার সামলাতে সামলাতে আমি তো বুড়ি হয়ে গেছি। তবে তুই কিন্তু আগের থেকে অনেক সুন্দর হয়েছিস।

– হয়েছে হয়েছে শুধু আমিই সুন্দর হয়েছি তাই না! আর তোর সৌন্দর্য যে এ কয় বছরে আরো বেড়েছে তার বেলায়। 

– হা হা হা! এখনো তোর সেই হিংসুটেপনা যায় নি নারে?

– কি করে যাবে বল! তুই যে আমার আর এক প্রাণ।

তনিমার গাল টিপে আদর করে কথা শুলো বলে তনুজা। ঠিক এমন সময় তাদের পেছন থেকে কেউ একটু অভিমানের স্বরে বলে ওঠে, 
' ও তোমরা দুজন তাহলে আমাকে ভুলে গেছো, আমার কথা কারোই মনে নেই, আমি তো তোমাদের কেউ না?' 

তনিমা-তনুজা দুজনেই পেছন ফিরে দেখে তনুশ্রী দাঁড়িয়ে আছে। তারা দৌড়ে গিয়ে তনুশ্রীকে জড়িয়ে ধরে বলে, 'তোকে আমরা কি করে ভুলব, তুই যে আমাদের মধ্যমণি।'

তনুজা তনুশ্রীকে বলে, ' কিরে তুই আজও দেরি করলি?'

তনুশ্রী বলে, 'তোরা তো জানিস আমার সাজতে একটু সময় লাগে। '

তনুশ্রীর কথা শুনে তনিমা ও তনুজা যেন হাসিতে ফেটে পরে। এমন সময় মাইকের আওয়াজ ভেষে আসে, 

' ব্যাচ ২০১০ এর রিইউনিয়নে আমন্ত্রিত সকল বান্ধবীগণ যদি কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে মঞ্চের এখানে আসুন। '

মাইকের আওয়াজ শুনে তনুশ্রী বলে,
'চল এবার আমাদের ডাকছে, আজ এত বছর পর আবার সেই পুরনো ছন্দে ফিরি।'

তনিমা ও তনুজা দুজনেই একসাথে বলে 'হুম চল আবার সেই পুরনো শয়তানি গুলো যে মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠছে।'

এভাবেই কথার ছলে হাসতে হাসতে তিন বান্ধবী আবার এক হয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। 

ঈরু

Comments

Post a Comment