গল্পঃ একটু খানি আলো
কলমে -- দেবপ্রিয়া চক্রবর্তী
শিরোনাম --একটু খানি আলো
তা: -- ২৯/০৬/২১
*******************
আজকে সুজাতা অফিস থেকে তারাতারি ছুটি নিয়েছে। আজকে তার একমাত্র সন্তান রুমন এর জন্মদিন , সকালে রুমন খুব বায়না করেছিল আজকে ওর বন্ধু দের নিমন্ত্রণ করবে আর মা যেন একটা বড় কেক নিয়ে আসে কিন্তু আজকে তো সুজাতা বেতন পায়নি , ও একবার ভাবলো ওর বস কে বলবে কিছু অগ্রীম টাকা দেওয়ার জন্য কিন্তু বলতে পারলো না , মনে মনে কি যেনো চিন্তা করলো আর বাড়ির জন্য বেরিয়ে পড়ল। ওর মন টা ভালো নেই কারন ও আজকে তার ছেলের আবদার রাখতে পারে নি । অটো থেকে নেমে আস্তে আস্তে বাড়ির দিকে পা বাড়িয়ে চলেছে, ওর চোখে জল ও ছেলে কে কি বলবে ? ভাবতে ভাবতে ঘরে এসে দেখে ছেলে ঘরে নেই ভাবলো হয় তো আসে পাশে কোথাও খেলছে। সুজাতা আর দেরি না করে আলমারি খুলে ওর শেষ সম্বল ওর মায়ের দেওয়া একজোড়া কানের দুল বের করে ব্যাগে পুরে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো দরজা বন্ধ করে ঘুরে দাঁড়াতেই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো; সামনে তার প্রতিবেশী পলাশ দা আর তার স্ত্রী লোপা বৌদি। তাদের হাতে কয়েকটা প্যাকেট আর পিছনে রুমন ও তার বন্ধুরা হাতে বেলুন নিয়ে খুব আনন্দ করছে । সুজাতা কিছুটা অবাক হলেও মুখে হাসি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলো ..... আপনারা এখন সবাই একসাথে কি ব্যাপার? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না । ওর কথা শুনে বৌদি বললেন আরে সব বুঝিয়ে বলছি কিন্তু তুমি আগে ঘরে তো আসতে দাও, সবাই মিলে ঘরে আসার পর সুজাতা বৌদিকে জিজ্ঞেস করলো , বৌদি এই সব কি আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না, আপনারা এত আয়োজন করেছেন নিশ্চয় রুমন এই সব আবদার করেছে ? সুজাতার হাত দুটো হাতে নিয়ে বৌদি বললেন , না সুজাতা রুমন কিছু বলেনি তোমার দাদা সকাল বেলায় তোমার আর রুমনের সব কথা শুনেছিল আর তোমার মুখ দেখেই বুঝেছিল তুমি কত টা কষ্টে আছ। তাই আমরা ঠিক করলাম এবার রুমন এর জন্মদিন পালন অবশ্যই হবে আর সেটা ও ওর ইচ্ছে মতো করে ই হবে। আমরা প্রতিবেশী হলে ও তোমাদের খুব ভালোবাসি, কখন ও পর বলে ভাবি না , তাই চল এবার তাড়াতাড়ি সব সাজিয়ে নি। সুজাতা র চোখে জল ও বৌদি কে জোড়িয়ে ধরে বলল বৌদি তোমরা আজকে যা করেছো আমার নিজের কেউ হলেও করতো না।। আজ থেকে তোমরা আমার প্রতিবেশী নও। তোমরা আমর খুব আপন। তারপর সবাই মিলে খুব আনন্দে জন্মদিন পালন করলো।

Comments
Post a Comment